মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ সব ধরণের ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

Spread the love

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। খেতাবপ্রাপ্ত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা ২ হাজার টাকা বাড়ানোর পাশাপাশি বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য জনকল্যাণ ভাতার হার ও উপকারভোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক সমন্বয় পরিষদের সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় এই ভাতা হার ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে।

সভায় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক সম্মানী ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সর্বশেষ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বাড়ানো মাসিক ভাতা কার্যকর হওয়ার পর আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ৯ লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬ লাখ ১৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৬৫০ টাকা পরিবর্তে ৭০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। এছাড়া, ৪০ হাজার বয়স্ক নারী ও ৫ হাজার প্রবীণ ব্যক্তির ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একইভাবে, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত ভাতা কর্মসূচির মোট ৯ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জনকে মাসিক ৭০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। আরও ২০ হাজার উর্ধ্বে থাকা ২ হাজার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী মাসিক ৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ২৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২৬ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ লাখ ৪০০ জন মাসিক ৭০০ টাকা এবং ১৮ হাজার ৩০০ জন মাসিক ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাসিক শিক্ষা উপবৃত্তির হারও ৫০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরে ৫৫০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ১ হাজার টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার বাড়িয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়েছে। তাদের মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া, এই জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের বৃত্তির সংখ্যা ৭ হাজার ১৮৯ জন বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ৩৬৩ করা হয়েছে। নতুন করে প্রাথমিক ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ৪০০ টাকা পাশাপাশি ৮৫০ জনকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক প্যারালাইসিস, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বাড়িয়ে ৫৫ হাজার করা হয়েছে। এসব রোগীদের এককালীন চিকিৎসা সহায়তার অর্থ ৫০ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে ৯ লাখ ৪৪ হাজার নতুন উপকারভোগী যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় মাসিক ভাতা ৮০০ টাকা করে প্রদান করা হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৭ লাখ বাড়িয়ে ৩০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। তারা মাসে ৩০ কেজি করে চাল ১৫ টাকা কেজি দরে মোট ৬ মাস পাবেন। এছাড়া, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভিজিএফ কর্মসূচিতে ২ লাখ ৫২ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৫৭ জেলের জন্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।