সিন্দুরমতি পুকুর-কে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া। রাজারহাট উপজেলার এই ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে দীর্ঘদিন ধরে একটি পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
সম্প্রতি পুকুরটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা সামনে আসতেই নেটিজেনদের একাংশ তীব্র প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানান, এই স্থানকে কোনোভাবেই বাণিজ্যিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা উচিত নয়।
প্রতিবাদকারীদের ভাষ্য, “সিন্দুরমতি পুকুরকে আমরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চাই না। আমরা এটিকে আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে, একটি পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবেই দেখতে চাই।” তাদের মতে, এই স্থানটি কেবল একটি জলাশয় নয়, বরং এটি আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি পবিত্র নিদর্শন।
স্থানীয়ভাবে প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, “সিন্দুরমতি” নামটির উৎপত্তি ‘সিঁদুর’ (লাল রঙ) এবং ‘মাটি/মতি’ শব্দ থেকে এসেছে। অনেকের বিশ্বাস, একসময় পুকুরের তলদেশ বা পানিতে লালচে আভা দেখা যেত, যা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, প্রাচীনকালে কোনো জমিদার বা রাজপরিবারের আমলে এই পুকুর খনন করা হয়েছিল।
এছাড়াও, বিশেষ ধর্মীয় দিনগুলোতে এখানে পূজা, স্নান ও বিভিন্ন আচার পালনের প্রচলন রয়েছে, যা পুকুরটিকে স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে পরিণত করেছে। এই কারণেই পুকুরটির সঙ্গে মানুষের আবেগ ও বিশ্বাস গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
নেটিজেনরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুকুরটির ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং একটি তীর্থস্থান হিসেবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা উচিত। তারা আরও বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখে সিন্দুরমতি পুকুরের পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখা সকলের দায়িত্ব।
ডিএমএন/