রাজশাহীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এক তরুণীকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক বছর আগে পূজামণ্ডপে হামলার অভিযোগ থাকলেও সেই মামলারও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি, যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান শান্ত, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল-এর রাজশাহী মহানগর শাখার বোয়ালিয়া (পশ্চিম) থানা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাড়ি নগরের বড়কুঠি এলাকায়।
ভুক্তভোগী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর অভিযোগ, গত শনিবার সন্ধ্যায় মনিরুজ্জামান শান্ত তাকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দেন। এ ঘটনায় রোববার সকালে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মনিরুজ্জামান শান্ত, তার ভাই মো. শুভসহ অজ্ঞাত আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুজ্জামান শান্ত দাবি করেন, “ধর্ষণের হুমকির কোনো ঘটনা ঘটেনি। পার্কিংয়ের টাকা নিয়ে শুধু তর্ক-বিতর্ক হয়েছে।”
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে অভিযোগকে “মিথ্যা ও বানোয়াট” দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এদিকে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে তরুণীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা তাকে খুঁজছি, তবে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। ফোন চালু থাকলেও লোকেশন শনাক্ত করা যাচ্ছে না।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পূজার একটি মণ্ডপে হামলার অভিযোগে মনিরুজ্জামান শান্তসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। মামলাটি করেছিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার সাহা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলার বাদী অশোক কুমার সাহা জানান, তদন্ত কর্মকর্তা কখনো তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কেও তিনি কিছু জানেন না।
বর্তমানে নতুন অভিযোগের পরও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
ডিএমএন/