একই চিকিৎসায় দুবার ফি! টাকা না থাকায় ফিরলেন মায়া রানী দাস

Spread the love

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মায়া রানী দাস (৬০) দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়া রোগে ভুগছেন। স্বামীহারা এই নারী একমাত্র ছেলে লিটন দাসকে নিয়ে পুরাতন কোর্টবিল্ডিং এলাকার সামনে একটি ছোট চা-নাস্তার দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

জানা গেছে, থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণে নিয়মিত রক্ত নেওয়াই তার বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। সম্প্রতি রক্ত নেওয়ার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে গত ৭ এপ্রিল উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়ালের শরণাপন্ন হন এবং ৫০০ টাকা ফি দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তিনি বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে প্রায় ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। এরপর বরিশালের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা সম্পন্ন করে রিপোর্ট নিয়ে আবার চিকিৎসকের কাছে যান। সে সময় অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক রোগী দেখছিলেন, সেখানে রিপোর্ট দেখাতে গিয়ে তাকে আবার ৩০০ টাকা ফি দিতে হয়।

রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক বেশ কিছু ওষুধ লিখে দেন এবং একটি নির্দিষ্ট ওষুধ সংগ্রহ করে পুনরায় দেখাতে বলেন। তবে কয়েকদিন খোঁজ করেও ওষুধটি না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান মায়া রানী। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসির সহযোগিতায় বরিশাল থেকে ওষুধটি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।

এরপর গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সেই ওষুধ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে সিরিয়াল রক্ষণাবেক্ষণকারী পুনরায় ৩০০ টাকা ফি দাবি করেন। কিন্তু সঙ্গে টাকা না থাকায় তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা না করেই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান।

মায়া রানী দাস বলেন, “আমি খুবই অসুস্থ মানুষ। ছেলেকে নিয়ে ছোট একটা চায়ের দোকান চালাই। অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে পরীক্ষা করিয়েছি। ডাক্তার দেখানোর জন্য বারবার ফি দিতে গিয়ে আর পারছি না।”

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যবস্থাপনা পক্ষ জানায়, প্রথমবার চিকিৎসা ফি ৫০০ টাকা এবং পরবর্তী এক মাসের মধ্যে ফলোআপ ভিজিটে ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসক যদি বিশেষভাবে ওষুধ দেখাতে ডাকেন, সে ক্ষেত্রে ফি নেওয়া উচিত নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।

তবে কেন পুনরায় ফি নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুপস্থিতির কথাও জানানো হয়। চিকিৎসকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন নম্বর সরবরাহ করা হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থায় আরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। বারবার ফি’র চাপ তাদের চিকিৎসা গ্রহণকে কঠিন করে তুলছে।

ডিএমএন/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *