নিজস্ব প্রতিবেদক: আনন্দ চন্দ্র শীল
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের মনতলা স্টেশন বাজারসংলগ্ন রাজাপুর গ্রামে অবস্থিত শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোররাতে এ ঘটনায় মন্দিরের বিভিন্ন স্থাপনা পুড়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কাজে যাওয়ার পথে কয়েকজন শ্রমিক মন্দিরে আগুন জ্বলতে দেখে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে মন্দিরের টিনশেড ঘর, পূজার সামগ্রী এবং একটি পানির ট্যাংকিসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। মন্দির কর্তৃপক্ষের মতে, এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা চলছে। কেউ একে নাশকতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। মাদকাসক্তদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও স্থানীয়দের আলোচনায় এসেছে।
খবর পেয়ে মনতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছেন।মন্দির কমিটির সভাপতি নারায়ণ পদ পাল বলেন, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল নোয়াপাড়া ইউনিয়নের উত্তর শাহপুর এলাকায় গভীর রাতে ছয়টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া কয়েক মাস আগে সুরমা চা বাগান এলাকায়ও মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সংখ্যালঘু অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ পাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। তবে কেউ যেন পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা জরুরি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম বলেন, এটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
ডিএমএন/