নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে কোনও ধরনের প্রচারণা করা যাবে না। আইন অনুযায়ী এ ধরনের লঙ্ঘন দণ্ডনীয় অপরাধ এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৮৬ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের যেকোনো সরকারি কর্মচারী যদি তার পদমর্যাদা ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে তিনি দণ্ডনীয় অপরাধের আওতায় আসবেন। এই ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন এক বছর এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে ইসি গত বৃহস্পতিবার সমস্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্টদের চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবে না। তবে তারা জনগণকে গণভোট বিষয়ে সচেতন করতে পারবে।
প্রেক্ষাপট:
তৃয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে জুলাই জাতীয় সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে আন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছে, যা ইসির নজরকাড়ার বিষয়।
ইসি স্পষ্ট বলে দিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনও প্রকার পক্ষপাতিত্ব করা নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৮৬ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সর্বশেষ মন্তব্য:
নির্বাচন কমিশন এই নির্দেশনার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চায়, সরকারি কর্মচারীরা নিজের পদমর্যাদা ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারবে না। এটি গণভোটের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিএমএন/