বরগুনার বেতাগী উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহে পৌর শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্র জানায়, এক সপ্তাহ আগে পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীগুরু সংঘ মন্দিরে চুরি ঘটে। এর এক দিন পর পৌর শহরের অবধূত মন্দিরে এবং গত পাঁচ দিন পূর্বে বেতাগী সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাবাড়ি সর্বজনীন রাধাগোবিন্দ মন্দিরে চুরি হয়। দুর্বৃত্তরা এসব মন্দিরের রাধাকৃষ্ণ মূর্তিসহ কাঁসর ঘণ্টা, ধূপদানের পাজাল, প্রদীপ ও প্রয়োজনীয় পূজার সামগ্রী নিয়ে যায়।
বেতাগী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণ কর্মকার বলেন, “গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরে প্রবেশ করে দেব-দেবীর অলংকার, রাধাকৃষ্ণের মূর্তি, দানবাক্সের টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মন্দিরের দরজা-জানালা ভেঙে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে।”
বাংলাদেশ সেবাশ্রম বেতাগী শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) মনোরঞ্জন বড়াল জানান, পৌর শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন চুরির ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বলেন, মন্দিরে চুরি শুধু সম্পদের ক্ষতি নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপরও আঘাত। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, “মন্দিরে চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি অভিযান চলছে।”