চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র তীরে অষ্টমী স্নানে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর ঢল

Spread the love

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে পবিত্র ‘অষ্টমী স্নান’ উপলক্ষে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছে। গভীর বিশ্বাস, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আবহে ভোর থেকেই মানুষের ঢলে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো চরাঞ্চল।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরের আলো ফুটতেই রাণীগঞ্জ, নয়ারহাট, থানাহাট, রমনা ও অষ্টমী চরসহ চিলমারীর বিভিন্ন ইউনিয়নের বালুচরে ভিড় জমান নারী, পুরুষ ও শিশুসহ হাজারো তীর্থযাত্রী। চারদিকে ভেসে ওঠে ভক্তিমূলক সঙ্গীত, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সুর, যা পুরো এলাকাকে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশে রূপ দেয়।

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র তীরে অষ্টমী স্নানে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর ঢল

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘অষ্টমী স্নান’ বা ‘পুণ্য স্নান’ কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং আত্মার পরিশুদ্ধি ও পাপমোচনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। ভক্তদের বিশ্বাস, এই পবিত্র তিথিতে ব্রহ্মপুত্রের জলে স্নান করলে জীবনের সঞ্চিত পাপ মোচন হয় এবং অর্জিত হয় ঈশ্বরের আশীর্বাদ ও মানসিক শান্তি।

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র তীরে অষ্টমী স্নানে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর ঢল

স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। রমনা ঘাট, বলাবাড়ি হাট, রাণীগঞ্জ হাট ও ফকিরের হাটে নির্ধারিত স্নানঘাটগুলোতে শৃঙ্খলার সঙ্গে পুণ্যার্থীরা স্নান সম্পন্ন করেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তরা এ উৎসবে অংশ নিতে আসেন। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের আট জেলার মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। শতবর্ষী এই স্নানোৎসব প্রতি বছর চৈত্র বা বৈশাখ মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং এ অঞ্চলের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

তবে আগের বছরের তুলনায় এবার কোনো বিদেশি ভক্তের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। অতীতে ভারত ও নেপাল থেকেও বহু তীর্থযাত্রী অংশ নিতেন, যা এ উৎসবের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।

ডিএমএন/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *