যশোরের কেশবপুর উপজেলার চালিতা বাড়িয়া শ্রীরামপুর গ্রামে অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ‘ব্রহ্মময়ী কালী মন্দির’ এখন চরম অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। প্রাচীন বাংলার স্থাপত্যশৈলীর গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শনটি আজ ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাল ইটের তৈরি এই মন্দিরটির দেয়াল ও ছাদে বড় বড় গাছ ও পরগাছা জন্মেছে। বিভিন্ন অংশের ইট খসে পড়ছে এবং কাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একসময় যে মন্দিরটি ছিল এ অঞ্চলের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র, সেটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় এখানে নিয়মিত পূজা-পার্বণ, উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠান হতো। বর্তমানে সেই প্রাণচাঞ্চল্য শুধু স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ।গ্রামের ৮৫ বছর বয়সী প্রবীণ বাসিন্দা সুবোল সর বলেন,“আমাদের ছোটবেলায় এই মন্দিরে অনেক মানুষ আসত, উৎসবের আমেজ থাকত। এখন এটি নষ্ট হতে দেখে খুব কষ্ট লাগে। সরকার একটু নজর দিলেই ঐতিহ্যটা টিকে যেত।”
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শম্ভু দেবনাথ জানান,“দীর্ঘদিনের অবহেলায় মন্দিরটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের অমূল্য সম্পদ। স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জরুরি পদক্ষেপ নিলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।”
স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা যায়।
ডিএমএন/