কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি দিঘীতে চৈত্র মাসের নবমী তিথিতে তীর্থস্নান উপলক্ষে হাজারো পুণ্যার্থীর সমাগমে সৃষ্টি হয়েছে এক অনন্য ধর্মীয় ও উৎসবমুখর পরিবেশ। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) ভোর থেকেই দিঘীর পাড়ে ভক্তদের ঢল নামে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা দিঘীর পাড়ে জড়ো হন। কেউ ফুল-ধূপ নিয়ে, কেউ বা নীরবে প্রার্থনায় মগ্ন হয়ে পবিত্র জলে স্নান করেন। সূর্যের প্রথম আলো দিঘীর জলে পড়তেই শুরু হয় পুণ্যস্নানের মূল আয়োজন।
ভক্তদের বিশ্বাস, এই পবিত্র তিথিতে সিন্দুরমতি দিঘীর জলে স্নান করলে পাপ মোচন হয় এবং ভগবানের আশীর্বাদ লাভ করা যায়। কেউ মনস্কামনা পূরণের আশায়, আবার কেউ আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতি বছর এই তীর্থস্নানে অংশগ্রহণ করেন।
স্নানকে কেন্দ্র করে দিঘীর চারপাশে বসে গ্রামীণ মেলা। মেলায় রয়েছে নানা ধরনের দোকান—মাটির তৈরি সামগ্রী, বাঁশের ঝুড়ি, কাঁচের চুড়ি, খেলনা ও বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য। মেলার কোলাহল আর তীর্থস্নানের আধ্যাত্মিকতা মিলিয়ে পুরো এলাকা যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, সিন্দুরমতি দিঘীর ইতিহাস বহু পুরোনো। জনশ্রুতি রয়েছে, এক জমিদার এই দিঘী খনন করান। সময়ের পরিক্রমায় এটি স্থানীয়দের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে।
দুপুরের দিকে ভিড় আরও বাড়তে থাকে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিকেলের দিকে ধীরে ধীরে ভিড় কমলেও দিঘীর পাড়ে দিনের স্মৃতি আর ভক্তদের পদচারণা রেখে যায় এক অন্যরকম অনুভূতি।
স্থানীয়দের মতে, সিন্দুরমতি দিঘীর এই তীর্থস্নান শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতি বছর এই আয়োজন ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে।
ডিএমএন/