ভগবান শ্রীরামের অবমাননার প্রতিবাদে আজ শহীদ মিনারে ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজের সমাবেশ ও প্রদীপ প্রজ্বলন

Spread the love

ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননার অভিযোগে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ (শুক্রবার) রাজধানীর জাতীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ ও প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করেছে ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ। বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠিতব্য এ কর্মসূচিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার এবং জাতীয় সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানানো হবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকে অবমাননা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ধাপে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রথমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রিয় সরকার-এর নেতৃত্বে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত প্রামাণিকের নেতৃত্বে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও নাগরিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ-এর ব্যানারে বৃহত্তর প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

সংগঠনটি আরও জানায়, আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান এবং একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করছে।

এ পরিস্থিতিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে আজকের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে, প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় অবমাননা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪১ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম পালন, প্রচার ও অনুশীলনের অধিকার সংবিধান দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার আলোকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈষম্যহীনতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ জানিয়েছে, আজকের কর্মসূচির পরও যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে তারা সরকারকে তিন কর্মদিবস সময় দেবে। এরপরও দাবি পূরণ না হলে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের ব্যানারে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।সম্ভাব্য পরবর্তী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দেশের ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, জেলা পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিল এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন।

সংগঠনটি দেশের সকল ধর্মপ্রাণ নাগরিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং সচেতন জনগণকে শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আজকের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

তারা বলেছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জাতীয় সম্প্রীতি রক্ষার সংগ্রাম অবশ্যই শান্তিপূর্ণ, সাংবিধানিক ও আইনসম্মত উপায়ে পরিচালিত হওয়া উচিত এবং সেই লক্ষ্যেই তারা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।

ডিএমএন/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *