‘আমি ফিরছি আমার আদি পরিচয়ে’— ধর্মীয় সিদ্ধান্তে নতুন নাম নাদিরা দাস

Spread the love

নিজের আদি পরিচয়ে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন নাদিরা ইসলাম মিম। ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে সনাতন ধর্ম গ্রহণের কথা জানিয়ে তিনি নতুন নাম গ্রহণ করেছেন—নাদিরা দাস।

ছবি: ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া নাদিরা দাস।
ছবি: ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া নাদিরা দাস।


একটি আবেগঘন বার্তায় তিনি জানান, জন্মসূত্রে মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠলেও দীর্ঘদিন ধরে নিজের অস্তিত্বের গভীরে এক ভিন্ন আধ্যাত্মিক আহ্বান অনুভব করছিলেন। তার ভাষায়, এটি কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়; বরং বহুদিনের আত্মঅনুসন্ধান, বিশ্বাস ও শেকড়ের টান থেকেই নেওয়া এক ব্যক্তিগত পদক্ষেপ।


তিনি লেখেন, “আমি কোনো নতুন পথে হাঁটছি না, বরং আমি ফিরে যাচ্ছি সেই পথে, যে পথে আমার রক্ত ও পূর্বপুরুষরা হাজার বছর আগে হেঁটেছিলেন।” তার দাবি, সহস্র বছর আগে তার পূর্বপুরুষদের ধর্মীয় পরিচয় ছিল সনাতন, আর সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায়ই তিনি নিজের ‘আসল পরিচয়ে’ ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ধর্মীয় রূপান্তর নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের মন্তব্য স্বাভাবিক। তবে তার মতে, যখন কেউ নিজের সত্যকে উপলব্ধি করেন, তখন বাহ্যিক বাধা আর বাধা মনে হয় না। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো ঘৃণা বা প্রতিক্রিয়ার ফল নয়; বরং আত্মার শান্তি ও চিরন্তন সত্যের অনুসন্ধান।


আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও জানান তিনি। যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এফিডেভিট প্রকাশ করেননি। কারিগরি সমস্যার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাম পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেন; তবে শিগগিরই তা সম্পন্ন করবেন বলে জানান।

ছবি: নাদিরা ইসলাম মিম (বর্তমান নাম নাদিরা দাস)।
ছবি: নাদিরা ইসলাম মিম (বর্তমান নাম নাদিরা দাস)।


নিজের পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, “নদী যেমন তার উৎসের দিকে ফিরে যেতে চায়, আমার আত্মাও আজ তার আদি পরিচয়ের সন্ধানে ব্যাকুল। আমি ফিরছি আমার ঘরে, আমার সত্যে।” নতুন এই পথচলায় সবার আশীর্বাদও কামনা করেছেন তিনি।
ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার অংশ। তবে এমন ঘোষণা সামাজিক ও ব্যক্তিগত পরিসরে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করে থাকে—যা নিয়েও আলোচনা চলছে।


সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও ধর্মীয় পরিচয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তির নিজস্ব বিষয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সামাজিক ও ব্যক্তিগত পরিসরে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিলেও তা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ডিএমএন/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *