কোটালীপাড়ায় মিঠু মন্ডলের পরিবারের পাশে মৃণাল কান্তি বৈষ্ণব, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

Spread the love

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আলোচিত পিঞ্জুরি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ল্যাব অপারেটর মিঠু মন্ডলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম মহাসচিব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি বৈষ্ণব। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

গত ২১ মে (বুধবার) মৃণাল কান্তি বৈষ্ণব একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে মিঠু মন্ডলের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে পরীক্ষার সাজেশন ও বিশ্বকাপ ফুটবল সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে মিঠু মন্ডল মন্তব্য করেন, “এগুলো সৃষ্টিকর্তাও বলতে পারবেন না।” পরে ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছু শিক্ষার্থী আপত্তি জানায়। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে মিঠু মন্ডল তাৎক্ষণিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায় বলে দাবি পরিবারের।

তবে পরিবারের অভিযোগ, পরবর্তীতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষের কারণে ঘটনাটিকে নতুন করে উসকে দেয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মিঠু মন্ডলের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন তাকে হেফাজতে নেয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

পিঞ্জুরি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, মিঠু মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। তিনি একজন শান্ত, ভদ্র ও দায়িত্বশীল কর্মচারী হিসেবে পরিচিত এবং অতীতে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে মৃণাল কান্তি বৈষ্ণব বলেন, “ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত প্রয়োজন। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা জনরোষের মাধ্যমে বিচার করার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের আশ্বস্ত করেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং ঘটনার পেছনে কোনো উসকানিদাতা থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লিখন সরকার, শাকিল বিশ্বাস, মানিক হালদার, মানব বাড়ৈ ও পার্থ মন্ডল উপস্থিত ছিলেন। সফরকালে প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

ডিএমএন/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *