ঝালকাঠিতে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Spread the love

ঝালকাঠি শহরের বিকনা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী এক সংখ্যালঘু পরিবারের বসতবাড়ি দখল ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অর্চনা দাস নামের এক গৃহিণী।

রবিবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ঝালকাঠি জেলা শাখার হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে অর্চনা দাস অভিযোগ করেন, তার স্বামী গোপাল চন্দ্র দাস পেশায় একজন বাবুর্চি ও চায়ের দোকানদার। একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কষ্টার্জিত সঞ্চয় এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে তারা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় একটি জমি ক্রয় করেন।

পরবর্তীতে ওই জমিতে কাঠ ও টিন দিয়ে একটি বসতঘর নির্মাণ করে পরিবারসহ সেখানে বসবাস শুরু করেন। তিনি জানান, ক্রয়কৃত জমির রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।

অর্চনা দাস অভিযোগ করেন, ঘর নির্মাণের পর থেকেই পার্শ্ববর্তী একটি পরিবার এবং তাদের সহযোগীরা তাকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মুন্সী ও তার সহযোগীরা ২ জুলাই ২০২৫ তারিখে তার অনুপস্থিতির সুযোগে পরিকল্পিতভাবে ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, বসতঘরে আগুন দেওয়ার পরও দুষ্কৃতিকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। বরং বিভিন্ন সময় তাকে মৌখিক হুমকি দিয়ে আইনের আশ্রয় না নিতে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।পরে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা এবং ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি পুনরায় কাঠের খুঁটি দিয়ে নতুন একটি ঘর নির্মাণ করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা তাকে আবারও হয়রানি শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অর্চনা দাস জানান, সম্প্রতি তার বিবাহিত মেয়ে শম্পা দাস শ্বশুরবাড়ি থেকে আত্মীয়দের নিয়ে তার বাড়িতে বেড়াতে এলে হাবিব মুন্সীর উস্কানিতে রাজা, মেহরিন বেগম নন্দিনী, রিয়াদ সিকদার কাজল, নাহিদ শিকদার ও রাশেদ শেখসহ কয়েকজন বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং মারধরের চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় তার মেয়ে শম্পা দাস ঝালকাঠি সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–১৭৪) দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অর্চনা দাস বলেন, থানায় জিডি করার পর প্রতিপক্ষরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং কলেজ মোড় এলাকায় মানববন্ধন করে তাকে ও তার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে। মানববন্ধনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত আইনি আশ্রয় নেওয়ার কথাও জানান।

ডিএমএন/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *