কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে মসজিদ কমিটি সাউন্ড বক্স ও মাইকসেট বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ঘোষণা অনুযায়ী, জেনে বা না জেনে কেউ এই নিয়ম ভাঙলে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে এবং কবরস্থানে দাফনও করা হবে না।
মসজিদ কমিটির ইমাম ও খতিব মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী বলেন, ‘গত ২৭ মার্চ জুম্মার নামাজের পরে কমিটি আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বড় মাজগ্রাম মহল্লার অধীনে কোনো বাড়িতে সাউন্ড বক্স বা মাইকসেট বাজানো হলে তাদের ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের কার্যকলাপ থেকে বহিষ্কার করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোরআনে গান-বাজনা নিষিদ্ধ। সম্প্রতি কিছু বিয়ে ও সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানো হয়েছে, যা অসুস্থ মানুষসহ সাধারণ জীবনের স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।’
মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ কুরবান আলী জানান, ‘নামাজ পড়া, কোরআন তিলাওয়াত এবং অসুস্থ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সে কারণে সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধ করা হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে প্যান্ডেল আয়োজন করতে কোনো বাধা নেই।’
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জমারত আলী ও রুপা খাতুন দম্পতির বাড়িতে ৭ বছর বয়সী নাতি আলিফের খতনা অনুষ্ঠানে একদিন সাউন্ড বক্স বাজানো হয়। মুসল্লিদের অসন্তোষের কারণে তা বন্ধ করা হয়। রুপা খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নাতির খতনায় মাত্র এক দিন বক্স ব্যবহার হয়েছে। নামাজ ও আজানের সময় বন্ধ ছিল। তবুও মসজিদ কমিটির কিছু সদস্য প্রভাব দেখিয়ে গ্রামে ঝামেলা সৃষ্টি করছেন।’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস বিষয়টিকে বাড়াবাড়ি আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘প্রতিটি মানুষ স্বাধীন। কারো ওপর চাপ প্রয়োগ করা যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
মসজিদের সভাপতি আমির হোসেন জানিয়েছেন, ‘উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স ও মাইক বাজানো বন্ধ করার বিষয়ে সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তবে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারের বিষয়টি তিনি জানেন না।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান জানিয়েছেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী গান-বাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।