হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার গিলাতলী গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ মন্দিরে কোটি টাকার আত্মসাৎ ও ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগটি গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়, যার ট্র্যাকিং নম্বর ১৭১৭৫৩৪২২২০০০৪।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভক্তদের অভিযোগ অনুযায়ী, মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি হরিশচন্দ্র সেন, সাধারণ সম্পাদক পংকজ পাল, ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার এবং সদস্য মুক্তিপদ রায় ও মনজ পালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মন্দিরের দিঘি ইজারা থেকে প্রাপ্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যায়নি। এছাড়া দিঘি থেকে কোটি টাকার সিরামিকস মাটি অবৈধভাবে উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ১০ একর জমির ইজারা অর্থেরও কোনো সঠিক হিসাব নেই বলে দাবি করা হয়েছে। দিঘি খননের নামে কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত ছাড়াই ২২ লাখ টাকা ব্যয় এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অন্তত এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তা প্রদান না করে উল্টো হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েতরা চরম আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সকল অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বেলা ১১টায় ঘটনাস্থলে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিত থাকলে একতরফা প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ডিএমএন/