শুভ দোল পূর্ণিমা ও হোলি উৎসব উপলক্ষে এক বার্তায় গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেছেন, অসুর ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রামই ভারতীয় ধর্মীয় দর্শনের অন্যতম মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, প্রাচীন শাস্ত্র ও ধর্মগ্রন্থে ন্যায়, সত্য এবং ধর্মের পক্ষে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। রামায়ণ ও মহাভারতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে দেবশক্তির মাধ্যমে অসুর ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের বর্ণনা পাওয়া যায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অসুর বংশে জন্মগ্রহণ করেও প্রহ্লাদ ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর পরম ভক্ত। তার পিতা হিরণ্যকশিপু বিভিন্নভাবে তাকে হত্যা করার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করেন। কারণ তিনি এমন বর পেয়েছিলেন যে আগুনে তার কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু অন্যায় কাজে সেই শক্তি ব্যবহার করায় শেষ পর্যন্ত প্রহ্লাদ ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় অক্ষত থাকেন এবং হোলিকা দগ্ধ হয়ে বিনাশ হন। এই ঘটনাকেই হোলি উৎসবের অন্যতম উৎস হিসেবে ধরা হয়।
তিনি বলেন, বসন্তের পূর্ণিমার এই দিনেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেশি বা অরিষ্টাসুর নামক অসুরকে বধ করেছিলেন বলে বিভিন্ন পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। অসুর বিনাশের পর মানুষের যে আনন্দোৎসব, সেই ঐতিহ্য থেকেই হোলি উৎসবের প্রচলন হয়েছে।
গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে হোলি উৎসবের প্রকৃত শিক্ষা থেকে মানুষ সরে গিয়ে বিকৃত আনন্দোৎসবে মেতে উঠছে। প্রকৃত ধর্মচর্চা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের পরিবর্তে এই প্রবণতা সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট-এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডিএমএন/