চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মো. জাকির হোসেন মিয়াজী (৪৫) নামে এক কৃষক বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বখাটে যুবকদের হামলায় আহত হয়ে ১৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (৮ মার্চ) ভোরে তিনি মারা যান। জাকির হোসেন তিন মেয়ে ও দুই ছেলেসহ পাঁচ সন্তানের জনক ছিলেন এবং কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, জাকির হোসেনের দ্বিতীয় মেয়ে সাকিবা আক্তার (১৫) নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কয়েকজন যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করত। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নাছির হোসেন মিয়াজির ছেলে ফাইম মিয়াজী (২৪), আইনুল কবির ফটিকের ছেলে মো. সাফিন (২৩), নওদোনা গ্রামের মিজান বেপারীর ছেলে রিফাত বেপারী ও মহসিন শিকদারের ছেলে রিয়াদ শিকদারসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন বখাটে।
এ ঘটনায় জাকির হোসেন মিয়াজী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজারে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। টানা ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার ভোর ৫টার দিকে তিনি মারা যান।এ ঘটনায় চাঁদপুর আদালতে নিহত জাকির হোসেনের ছোট ভাই হোসেন মিয়াজী মামলা দায়ের করেছেন।
নিহতের মেয়ে সাকিবা আক্তার বলেন, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় কয়েকজন ছেলে প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি স্কুলে অভিযোগ করেন। এর জের ধরেই তারা তার বাবাকে মারধর করে।
বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, তার বাবাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার স্বামী একজন কৃষক ছিলেন। মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে এখন তিনি কীভাবে বাঁচবেন তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং স্বামী হত্যার সঠিক বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল্ল্যা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাকে কেউ অবহিত করেনি।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, আহত অবস্থায় জাকির হোসেন মিয়াজীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাবে।