রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী নীলিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি মো. মিলন মল্লিকের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। একটি বিশেষ মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ‘হিন্দু’ হিসেবে প্রচার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দেবালয় মিডিয়া নিউজ -এর অনুসন্ধান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

মামলার নথিপত্র এবং র্যাব-৩-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বাসায় নীলিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাগেরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামি মো. মিলন মল্লিককে (২৮)।আসামির নাম মো. মিলন মল্লিক। পিতার নাম মো. মজিদ মল্লিক। তার বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার সোনাখালী গ্রামে। তিনি পেশায় নিহত ছাত্রীর বাবার রেস্তোরাঁর কর্মচারী ছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মিলন মল্লিক স্বীকার করেন যে, তিনি কিশোরী মেয়েটিকে কু-প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং তাতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুক ও এক্স (সাবেক টুইটার)-এর বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে আসামির ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হচ্ছে যে, জনৈক এক হিন্দু ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অথচ র্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে আসামির নাম ও পরিচয় স্পষ্টভাবে প্রকাশের পরও ‘মিলন’ নামটি ব্যবহার করে সুকৌশলে তাকে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ধরনের পোস্টগুলো সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছে। আসামি মিলন মল্লিক একজন মুসলিম এবং তার পারিবারিক পরিচয় থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো সংবেদনশীল খবর শেয়ার করার আগে বিশ্বস্ত ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
ডিএমএন/