কুড়িগ্রামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ৮০% সংরক্ষণের দাবি, ন্যায়বিচারের দাবিতে হরিজন সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

Spread the love

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ও দাবির ঝড় উঠেছে। বুধবার বিকেল তিনটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় হরিজন সম্প্রদায়। কর্মসূচির আয়োজন করে কুড়িগ্রাম জেলা বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ।

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা পদ্ধতি অযৌক্তিক ও বাস্তবতাবিবর্জিত। তাদের দাবি, দক্ষতা ও শারীরিক সক্ষমতানির্ভর একটি পেশায় লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাই প্রক্রিয়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আরও বৈষম্য তৈরি করবে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিচ্ছন্নতা পেশার সঙ্গে যুক্ত হরিজন সম্প্রদায় শুধু অভিজ্ঞতায়ই এগিয়ে নয়, বরং এই পেশার সঙ্গে তাদের অস্তিত্ব জড়িত।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “আমরা শুধু চাকরিপ্রার্থী নই, আমরা শত বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি পেশার ধারক। পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদটি আমাদের জন্য শুধু জীবিকা নয়, এটি আমাদের সম্মান ও বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রতীক। লিখিত পরীক্ষার নামে আমাদের দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বঞ্চিত করা যাবে না।”জেলা শাখার সভাপতি শ্রী স্বপন কুমার, সাধারণ সম্পাদক জয় কুমার, হরিজন মানবকল্যাণ সংগঠনের বাবু বাশফোর ও উত্তম কুমারসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন—

১. লিখিত পরীক্ষা শিথিলকরণ: লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে ব্যবহারিক দক্ষতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন।

২. ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ: পরিচ্ছন্নতা পেশার সঙ্গে ঐতিহ্যগতভাবে যুক্ত হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য মোট পদের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

৩. স্বচ্ছতা ও মানবিকতা: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ।কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নয়টি পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদসহ বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করেই হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পদ্ধতিতে নিয়োগ হলে ঐতিহ্যগতভাবে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চরম বৈষম্যের শিকার হবে।

ডিএমএন/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *