শ্রীরামের ছবি অবমাননা করায় পলাশবাড়ী থানায় জিডি, আইনি ব্যবস্থার দাবি টিম্পল পাল নিশানের

Spread the love

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের বিগ্রহ নির্মাণে বাধা প্রদান এবং বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শ্রীরামের ছবি অবমাননার অভিযোগে পলাশবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। জিডিটি দায়ের করেন সনাতনী সংগঠক, মানবাধিকার কর্মী ও সমাজসেবক টিম্পল পাল নিশান।

পলাশবাড়ী থানার জিডি নং- ৫৮০ এবং ট্র্যাকিং নম্বর TD8WBI। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুর হাঁসবাড়ী এলাকায় অবস্থিত রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে নির্মাণাধীন ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের বিগ্রহকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি ও অজ্ঞাতনামা আন্দোলনকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং জনসম্মুখে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছেন, যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

জিডিতে অভিযোগ করা হয়, আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত ব্যানারে থাকা ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের ছবি বা প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ এবং অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে। আবেদনকারীর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো, জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর সামিল। এর ফলে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জিডিতে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য ঘটনাটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে সংরক্ষণের আবেদন জানানো হয়েছে।

জিডি গ্রহণের পর পলাশবাড়ী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে জিডি দায়েরের পর এক প্রতিক্রিয়ায় টিম্পল পাল নিশান বলেন, “আমরা সনাতনীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ন্যায়বিচার চাই।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদা সমানভাবে রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো ধর্মীয় প্রতীক, উপাস্য বা বিশ্বাসের অবমাননা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা চাই আইন অনুযায়ী বিচার হোক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকুক।”

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও অভিযোগটি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ডিএমএন/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *