লোহাগাড়ায় জমি বিরোধে ৮৫ বছরের বৃদ্ধ ফনিন্দ্র কর্মকারকে ছাদ থেকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ, শিক্ষক শংকরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

Spread the love

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের উজিরভিটা কর্মকারপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ ফনিন্দ্র কর্মকারকে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক শংকর কর্মকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, ফনিন্দ্র কর্মকার দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে উজিরভিটা কর্মকারপাড়ায় সপরিবারে বসবাস করে আসছেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি তার পুরোনো মাটির ঘর ভেঙে সেখানে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করেন। সম্প্রতি তার ভাইয়ের ছেলে শংকর কর্মকার (শংকর মাস্টার নামে পরিচিত) ওই বাড়ির সীমানা ঘেঁষে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণকাজ চলাকালে শংকর কর্মকার দাবি করেন যে, ফনিন্দ্র কর্মকারের ভবনের ভেতরের প্রায় ৬ ফুট জায়গা তার মালিকানাধীন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক ও জমির কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয় বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন ধরে ফনিন্দ্র কর্মকারের বাড়ির টিনের ছাউনি ঘেঁষে দেওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে নিজেদের ঘরের টিনের অংশ কেটে ফেলার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ফনিন্দ্র কর্মকার ও তার পরিবারের সদস্যরা আপত্তি জানান।

অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার একপর্যায়ে ফনিন্দ্র কর্মকার বাধা দিতে গেলে শংকর কর্মকার তাকে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেন। এতে তিনি পিঠ ও হাতে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, এটি শুধুমাত্র জমি দখলের চেষ্টা নয়, বরং একজন প্রবীণ ব্যক্তির ওপর পরিকল্পিত হামলা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শংকর কর্মকারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

ডিএমএন/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *