চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গীতাপাঠ ও মহোৎসব অনুষ্ঠানে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা গ্রামের গলাচিপা খামারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, খামারপাড়া এলাকায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গীতাপাঠের অনুষ্ঠান চলাকালে পার্শ্ববর্তী মধ্যটিলা ত্রিপুরা পাড়া থেকে আসা একদল কিশোর মদ্যপ অবস্থায় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করলে আয়োজক কমিটির সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার জন্য খামারপাড়া সমাজের সর্দার সেকান্ত ত্রিপুরা ও অন্যরা মধ্যটিলা সমাজের সর্দার নিকেন্দ্র ত্রিপুরার কাছে গেলে পুনরায় অতর্কিত হামলার শিকার হন তারা।
এই হামলায় খামারপাড়া এলাকার রূপ কুমার ত্রিপুরা (২৬), পঞ্চ কুমার ত্রিপুরা (৩২), রিফন ত্রিপুরা (২৫), সহেল ত্রিপুরা (২২), আলোমতি ত্রিপুরা (৩৫) এবং মধ্যটিলা সমাজের গৃহিণী পুকতি ত্রিপুরা (৪৮) আহত হন।
স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মোহন ত্রিপুরা ও পরেশ ত্রিপুরার নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। অভিযুক্তদের মধ্যে শিপন, রাজীব, তপু, তাজেল, অজিত, রাজেত, সনিক, খোকন ও রসুল ত্রিপুরাসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
খামারপাড়া সমাজের সর্দার সেকান্ত ত্রিপুরা বলেন, “শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে কয়েকজন কিশোর মদ্যপ অবস্থায় অনুষ্ঠানে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং মেয়েদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করে। আমরা বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার চেষ্টা করলে উল্টো আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।”
অন্যদিকে মধ্যটিলা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বৈশ্য কুমার ত্রিপুরা বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। কয়েকজন কিশোর এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করবো, না হলে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, “কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় অনুষ্ঠান পণ্ড হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ডিএমএন