নিজস্ব প্রতিবেদক | আনন্দ চন্দ্র শীল | দেবালয় মিডিয়া নিউজ
দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় উপাসনালয় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রধান ফটক দীর্ঘ প্রায় আট মাস ধরে সাইনবোর্ডবিহীন অবস্থায় রয়েছে। জাতীয় মন্দিরের প্রবেশপথে পরিচয় বহনকারী সাইনবোর্ড না থাকায় ভক্ত-অনুরাগী ও সনাতনী সমাজের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত বছরের দুর্গাপূজার পূর্বে কোনো এক সময়ে মন্দিরের প্রধান ফটকে থাকা মূল সাইনবোর্ডটি খুলে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সেখানে নতুন কোনো সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়নি। ফলে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রবেশদ্বার আজও পরিচয়হীন অবস্থায় রয়েছে।
সনাতনী সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কেবল একটি উপাসনালয় নয়; এটি বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অন্যতম প্রতীক। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য ভক্ত, দর্শনার্থী ও পর্যটক এই মন্দিরে আসেন। অথচ জাতীয় মন্দিরের প্রধান ফটকে নামফলক না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মর্যাদাহানিকর বলে মনে করছেন অনেকেই।
ভক্তদের অভিযোগ, মন্দিরে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, উৎসব, সভা-সেমিনার ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হলেও প্রধান ফটকের সাইনবোর্ড পুনঃস্থাপনের মতো একটি মৌলিক বিষয় দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অনেকের মতে, জাতীয় পর্যায়ের একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচয়বাহী সাইনবোর্ড মাসের পর মাস অনুপস্থিত থাকা কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হওয়ায় সাধারণ ভক্তদের মধ্যেও হতাশা বাড়ছে।
সনাতনী সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রধান ফটকে নতুন সাইনবোর্ড স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। তারা মনে করেন, জাতীয় মন্দিরের মর্যাদা, ঐতিহ্য ও পরিচয় রক্ষার স্বার্থে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভক্তদের প্রত্যাশা—দেশের এই ঐতিহাসিক ও জাতীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে দ্রুত সাইনবোর্ড পুনঃস্থাপন করে মন্দিরের স্বকীয় পরিচয় ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা হবে।
ডিএমএন/