বিশ্ব খ্রিষ্টান ধর্মের অন্যতম বিতর্কিত এবং প্রায়শ্চিত্ত অটল প্রত্নতাত্ত্বিক রহস্য শ্রাউড অব তুরিন — সেই লিনেন কাপড়, যা অনেক বিশ্বাসীর মতে যিশু খ্রিস্টের দেহাবশেষে মোড়ানো হয়েছিল — এবার সমকালীন বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণে এসেছে নতুন এক দিক দিয়ে।
সাম্প্রতিক ডিএনএ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওই কাপড়ের আঁশে পাওয়া মানুষের জীবনের প্রায় ৪০ % ডিএনএ ভারতীয় উপমহাদেশের জিনগত লাইনেজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ চিহ্ন ধারণ করতে পারে। এই আবিষ্কার ইতিহাসবিদ ও বিজ্ঞানী সমাজে নতুন প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, প্যাডোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক জিনোমিক বিশ্লেষণে কাপড়ের ফাইবারের মধ্যে মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর ডিএনএও শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৮‑৪০ % মানব ডিএনএ দক্ষিণ এশিয়ার — বিশেষত ভারতীয় — লাইনেজের সাথে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
গবেষণাপত্রে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বলা হয়েছে, সেই লিনেন কাপড় ইতিহাসের বিভিন্ন সময় ভারতীয় বস্ত্র বা সূতার সংস্পর্শে এসেছে। বিশেষ করে প্রাচীন বাণিজ্যপথ যেমন Silk Road ও ইন্দুস উপত্যকার বাণিজ্যপথ এর মাধ্যমে এই সংমিশ্রণ ঘটতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ফলাফলে সরাসরি বলা যায় না যে কাপড়টি নিশ্চিতভাবে ভারতেই উৎপন্ন বা যিশুর দেহ মোড়া হয়েছিল। কারণ ডিএনএ‑র এই উপস্থিতি বহু শতাব্দীর সংস্পর্শ, পরিবেশগত সংমিশ্রণ এবং বহু মানুষের স্পর্শের কারণে সৃষ্টি হতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছে, কাপড়ের উপর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহু মানুষের সংস্পর্শ ও পরিবেশের কারণে জটিল ডিএনএ মিশ্রণ গঠিত হয়েছে। তাই মূল ডিএনএ বা উৎপত্তিস্থল নির্ধারণে এখনও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত আসতে পারেনি।
শ্রাউড অব তুরিনের বৈজ্ঞানিক সত্যতা ও প্রকৃত উৎপত্তি নিয়েও বহু বিতর্ক রয়েছে। ১৯৮৮ সালের কার্বন‑ডেটিং পরীক্ষায় কাপড়টি মধ্যযুগীয় (১৩৬০‑১৩৯০ ইং) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যদিও সেই ফলাফল নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে।
বিশ্বের তত্ত্বাবধায়ক ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একাংশ এখনও এটিকে ধার্মিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে দেখলেও, ইতিহাসবিদ ও বিজ্ঞানীরা বলছেন এটি একটি জটিল, বহু-স্তরীয় ঐতিহ্যাচ্ছন্ন বস্তুর মিলিত ইতিহাস, যেখানে বহু পরিবেশ, মানুষ এবং অঞ্চলগত সংযোগ কাজ করেছে। সাম্প্রতিক DNA‑জাত তথ্য এই রহস্যকে আরও গভীর করে তুলেছে।
ডিএমএন/