নড়াইলের নলদি ইউনিয়নের বাসিন্দা সাফিয়া বেগম (৩৪) অভিযোগ করেছেন, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের চাল নিতে গেলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাকে ধাক্কা দেন এবং একপর্যায়ে গলা চেপে ধরেন।
সাফিয়া বেগমের কথায়, “আমার স্বামী মেলাই অসুস্থ। তিন বছর ধরে ক্যান্সার রোগে ভুগছে। রাত্রিবেলা বিছানায় একটু ঘুমায় না। শরীরের শিরাডা ধরে টাটায়। যেটুক সময় বিছানায় ঘুমায়, মাথাডা উঁচু করে ঘুমায়। কম কষ্টের জন্যি চাউল আনতি যাইনি। কিন্তু চেয়ারম্যান আমাকে গলা ধরে ধাক্কা দিয়েছে।”
তিনি জানান, তার স্বামী জাহাঙ্গীর ক্যান্সার রোগে ভুগছেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে চার সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন। “আমার মেয়েটা সেয়ানা হয়েছে। মেয়েডারে ঈদের কাপড় কিনে দিতে পারিনি। চাল আনতে চেয়ারম্যানের কাছে গেলে দুই কেজি চাল দিয়েছে। দুই কেজি চাল দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আমারে গলা ধরে ধাক্কা দিয়েছে, এরপর গলা চেপে ধরে রেখেছে,” তিনি বলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী পলি পারভিন বলেন, “আমাদের চাল আনতে যেতে বলা হয়েছে। আমার সঙ্গে সাফিয়া চাল আনতে গেছিল। মহিলাকে যেভাবে গলা চেপে ধরেছে, আমরা সবাই দেখেছি। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে গলা টেনে ছিঁড়ে ফেলার হুমকি দিয়েছে। সেখানে অনেক লোক উপস্থিত ছিল। একজন মহিলাকে গায়ে হাত দেওয়া ঠিক হয়নি।”
নলদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ পাখী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ও মহিলা চাউল নিতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিল। আমি তাকে মাথায় হাত দিয়ে বুঝিয়েছি। তাকে তো আমি চিনি না। পরে জানতে পারলাম তার বাড়ি চাকুলিয়া।”
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী কায়সার জানান, “এ বিষয়ে কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিএমএন/