“ইহুদি পরিবারে জন্ম, মুসলিম বিয়ে, শেষকৃত্য হিন্দু রীতিতে: জায়েদ খানের মা জরীন কতরকের জীবনের অবিশ্বাস্য সত্য!”

Spread the love

ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখ জরীন কতরক এর মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। মুসলিম পরিবারে বিয়ে ও জন্মের পরেও কেন তাঁর শেষকৃত্য হিন্দু রীতিতে সম্পন্ন হলো—এই প্রশ্ন ঘিরেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নানা জল্পনা।

গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রয়াত হন জরীন কতরক। তিনি ছিলেন অভিনেতা জায়েদ খান এবং সুজান খানের মা, পাশাপাশি হৃতিক রোশনের প্রাক্তন শাশুড়ি। জন্মসূত্রে পারসি পরিবারে জন্মগ্রহণ করা জরীন পরবর্তীতে অভিনেতা সঞ্জয় খানের সঙ্গে মুসলিম রীতিনীতি অনুযায়ী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই সময় তিনি ধর্মান্তরিত হলেও পরিবার পরবর্তীতে একটি ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয়েই পরিচিত হয়ে ওঠে।

তবে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে তাঁর মৃত্যুর পর। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরীন কতরকের দেহ দাহ করা হয়েছে, যা মূলত হিন্দু ধর্মীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি তাঁর চিতাভস্ম নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়।

জানানো হয়েছে, এটি ছিল তাঁর নিজের ইচ্ছা। জীবদ্দশায় একাধিকবার তিনি সন্তানদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন—মৃত্যুর পর যেন তাঁকে দাহ করা হয় এবং তাঁর অস্থি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। জায়েদ খান বলেন, “মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করা আমাদের দায়িত্ব। মানুষ কী বলছে, তা নিয়ে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা নিজেদের একটি ধর্মনিরপেক্ষ পরিবার হিসেবেই দেখি।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কোনো ধর্মীয় বিভ্রান্তি নয়, বরং একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও শেষ ইচ্ছার প্রতিফলন। বহুধর্মীয় সমাজে এমন উদাহরণ নতুন নয়, যেখানে ব্যক্তি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ভিন্ন ধর্মীয় রীতির প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *