চৌমুহনীতে রথযাত্রার তোরণ ঘিরে উসকানিমূলক প্রচারণার অভিযোগ, আতঙ্কে সনাতনী সম্প্রদায়

Spread the love

নোয়াখালীর চৌমুহনীতে শ্রীশ্রী রথযাত্রা উপলক্ষে নির্মিত স্বাগত তোরণ ও প্রচারণামূলক ব্যানারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রথযাত্রা উপলক্ষে চৌমুহনীর প্রধান সড়কে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্যোগে স্বাগত তোরণ ও ব্যানার স্থাপন করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে এসব তোরণ ও ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও প্রচারণা চালানো হয়। স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের অভিযোগ, এসব প্রচারণায় ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

তাদের দাবি, একটি ফেসবুক আইডি থেকে এমন প্রচারণা চালানো হয়েছে, যেখানে বলা হয় তোরণ ও ব্যানারের নিচ দিয়ে চলাচল করলে মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষুণ্ন হবে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলেন, রথযাত্রা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসব উপলক্ষে তোরণ ও ব্যানার স্থাপন করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই ধর্মীয় আয়োজনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে। তাই ধর্মীয় উৎসব পালনের সাংবিধানিক অধিকার যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও সনাতনী সমাজের প্রতিনিধিরা উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা সহজ হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং রথযাত্রাসহ সব ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে আয়োজনের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

ডিএমএন/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *