ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ভগবান শ্রীরাম ও ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি নির্মাণ সংক্রান্ত সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর প্রেরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন, প্রচার ও অনুশীলনের অধিকার রয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় ভগবান শ্রীরামচন্দ্র ও ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের প্রতিকৃতির অবমাননাকর কর্মকাণ্ড কোটি কোটি সনাতনী মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিতে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
স্মারকলিপিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের (UDHR) বিভিন্ন অনুচ্ছেদেরও উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ধর্ম, বিশ্বাস কিংবা পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করা মানবাধিকারের পরিপন্থী।
ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নিকট ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন ভগবান শ্রীরাম ও ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি নির্মাণে সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দাবিও জানানো হয়েছে।
ডিএমএন/