কুড়িগ্রাম জেলার আলোচিত পুরোহিত উদয় শংকর চক্রবর্তী এবার প্লেনে চড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর কাছ থেকে ভাতার চেক গ্রহণ করে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় গিয়ে এই ভাতা গ্রহণ করেন তিনি, যা ইতিমধ্যেই জেলার নিম্নআয়ের ও হতদরিদ্র পুরোহিত মহলে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি জেলা ট্রাস্টি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ওই সময়ে তিনি রামকৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন মন্দিরের নামে অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে রামকৃষ্ণ মিশনের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, উদয় শংকর চক্রবর্তীর নিজস্ব একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং তিনি জেলার একজন কোটিপতি হিসেবে পরিচিত। জেলার সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, “যার নিজের প্লেনে চড়ার সামর্থ্য, তিনি সামান্য ভাতার টাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ধর্ণা দিতে যাবেন—এটা সত্যিই বিস্ময়কর।”
নিম্নআয়ের পুরোহিতদের অবস্থা
কুড়িগ্রাম জেলায় বহু হতদরিদ্র ও অসহায় পুরোহিত রয়েছেন, যারা দিন আনি দিন খাই অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তাদের বাদ দিয়ে কোটিপতি এক পুরোহিত ভাতার তালিকায় স্থান পাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, ট্রাস্টি থাকাকালীন অনিয়মের পরও কেন তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলো—তা সরকারের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
ট্রাস্টি পদে পুনঃনিয়োগের তৎপরতা
রাজনৈতিক কয়েকজন নেতার সুপারিশে উদয় শংকর চক্রবর্তী পুনরায় জেলা ট্রাস্টি পদে ফিরতে তৎপর হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান সরকারের দরবারে প্রভাব বিস্তার করে নিজের অবস্থান ফিরে পেতে তিনি নতুন করে পদত্যাগ ও প্রভাব প্রয়োগের চেষ্টা শুরু করেছেন।
সনাতনী হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিক্রিয়াকুড়িগ্রাম জেলার হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের দায়িত্বে থাকা স্বপন কুমার সাহা জানান, “এই বিষয়টি আমার অগোচরে হয়েছে। আমি জানি না, সমাজসেবা অধিদপ্তর কুড়িগ্রাম থেকে এই তথ্য পাঠিয়েছে। তবে অভিযোগ এসেছে, বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হবে।”
ভাতা প্রাপ্তি এবং ট্রাস্টি পদে পুনঃনিয়োগের তৎপরতা কতটা নৈতিক ও যুক্তিসঙ্গত—এ নিয়ে জেলাজুড়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও হতদরিদ্র পুরোহিতদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
ডিএমএন/