মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণীদাসকে হত্যার হুমকির পর সাময়িকভাবে মন্দির বন্ধ রাখা হলেও সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের নিরাপত্তা আশ্বাসে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা এবং সনাতনী সমাজের বিশিষ্ট জননেতা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণীদাসকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৪ ফেব্রুয়ারি, যখন শ্রী হরিদাস বাবু এক হিন্দু পথচারীকে নিগৃহীত হতে দেখে প্রতিবাদ করেন। এসময় ওই যুবকরা পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে হরিদাস বাবু মুসলিমদের গালি দিয়েছেন এবং ‘জঙ্গি’ বলেছেন। হরিদাস বাবু অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার মন্দিরে কর্মরত প্রায় ৭০ শতাংশ শ্রমিকই মুসলিম এবং আসন্ন রমজানে তারা যাতে ইফতার করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করা হবে।
পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়, যখন ‘RI JON’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে হরিদাস বাবুর ছবিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পোস্টে লেখা ছিল, “মুসলমান ও আল্লাহর কোরআনকে নিয়ে কথা বললে তোর মতো হরিদাস… পাচা ধরে আচার দিবো…”।

হুমকির পরপরই হরিদাস বাবু মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
হরিদাস বাবু দেবালয় মিডিয়া নিউজ’কে জানান, হুমকিদাতা একজন মুসলিম যুবক এবং বিএনপি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ঘটনার খবর জানাজানি হওয়ার পর প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইএসপিআর (ISPR) সদর দপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও বিদেশি কূটনীতিকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং হরিদাস বাবুর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

বর্তমানে মন্দিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য মন্দিরটি পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে। হরিদাস বাবু জানিয়েছেন, “এখন আর কোনো ভয়ের কারণ নেই, ভক্তরা নির্বিঘ্নে মন্দির দর্শন করতে পারবেন।”
উল্লেখ্য, হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস প্রতিষ্ঠিত পলাশবাড়ীর শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দিরটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন মন্দির হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রতিদিন বহু মানুষ দর্শন ও পূজার জন্য উপস্থিত হন।
ডিএমএন/