মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন সামাজিক সংগঠক কৃষ্ণ মোহন রায়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের “প্রয়োজনে হিন্দুদের জন্য প্রথম শহীদ হবো” বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন সামাজিক সংগঠক কৃষ্ণ মোহন রায়।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শহীদ হওয়ার ঘোষণা নয়—দেশের প্রায় তিন কোটি সংখ্যালঘু নাগরিকের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি হলো সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা। আবেগ বা রাজনৈতিক আশ্বাসে নয়, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তা পায় কেবল কার্যকর আইন ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে।
কৃষ্ণ মোহন রায় বলেন, ভোটের আগে আশ্বাস নয়, ভোটের পরেও যেন সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, জমি, মন্দির ও জীবন নিরাপদ থাকে—এটাই তাদের মূল চাওয়া। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ রাষ্ট্রকে সবার জন্য সমান ও দায়িত্বশীল হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দখল হওয়া সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার নজির এখনো খুব সীমিত।
তিনি আরও বলেন, হত্যা, ধর্ষণ বা সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি যে রাজনৈতিক পরিচয়েরই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় করুণা চায় না, তারা চায় সংবিধানস্বীকৃত নাগরিক অধিকার এবং এমন একটি বাংলাদেশ—যেখানে পরিচয় হবে ‘নাগরিক’, কোনোভাবেই ‘সংখ্যালঘু’ নয়।
বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শহীদ হওয়ার প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও সংখ্যালঘুদের আট দফা দাবি বাস্তবায়ন করা। এতে দেশের কোটি কোটি মানুষ কৃতজ্ঞ থাকবে।
ডিএমএন/