আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব সার্বজনীন, শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ৮ দফা সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিটকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাজীব চন্দ্র সাহা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূজা চলাকালে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি ইউনিটে সক্রিয় ‘স্বেচ্ছাসেবক ও মনিটরিং সেল’ গঠন করতে হবে। এসব সেল পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল পূজামণ্ডপের সামনে সাধারণ দর্শনার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি ও পুণ্যার্থীদের সহযোগিতার জন্য ‘তথ্য ও সেবা ক্যাম্প’ স্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় চেতনা ও সংগঠনের নির্দেশনা যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘বিশেষ পরিদর্শন কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য হটলাইন ও কন্ট্রোল রুম চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপ এলাকায় অপসংস্কৃতি, জুয়া ও মাদক সেবন প্রতিরোধেও বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা ও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও হয়রানি প্রতিরোধে মহিলা উইংয়ের কর্মীদের সম্পৃক্ত করে বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক টিম মোতায়েনের নির্দেশ রয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। নারী ও শিশুদের নিরাপদে পূজামণ্ডপে আসা-যাওয়া এবং উৎসবে অংশগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক তথ্য, গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়, সেজন্য আইটি সেল ও তরুণদের সমন্বয়ে সাইবার নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচার না করার বিষয়েও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশবাসীকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল দুর্গোৎসব উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট।