গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আসা অ্যাডভোকেট চৈতালি চক্রবর্তীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হেযবুত তওহীদের বর্তমান প্রধান নেতা (ইমাম) হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক বক্তব্যে চৈতালি চক্রবর্তী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতের প্রসঙ্গে পৃথক প্রদেশের দাবি উত্থাপন করেন। এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, কোনো সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা প্রদেশ বা রাষ্ট্রের দাবি সমস্যার সমাধান নয়; বরং এতে বিভাজন আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, “যদি আক্রান্ত হওয়ার কারণে আলাদা প্রদেশের দাবি তোলা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য যেকোনো আক্রান্ত গোষ্ঠীও একই দাবি তুলতে পারে। এতে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং আমাদের উচিত উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা।”
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা আসেন, আমরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়াই। উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলি। আলাদা প্রদেশ কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না।”
হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম আরও বলেন, সনাতন ধর্মেও অধর্মের বিরুদ্ধে সংগ্রামের শিক্ষা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিভক্তির পথে না গিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার ভাষায়, “প্রকৃত ইসলাম সহনশীলতা, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার শিক্ষা দেয়। যারা ধর্মের নামে বিদ্বেষ ও বিভাজন সৃষ্টি করছে, তারা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অনুসরণ করছে না।”
তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে যেন কোনো ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি না হয়, সে জন্য রাষ্ট্র, সমাজ ও সকল সচেতন নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পলাশবাড়ীর শ্রীরাম বিগ্রহ নির্মাণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তর্ক-বিতর্ক চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।
ডিএমএন/