গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কোমরপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ৮১ ফুট উচ্চতার ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহের নির্মাণকাজ স্থগিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সনাতন মহাসংঘ।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৯ জুন ২০২৬ (শুক্রবার) বিকেল ৫টায় রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ সনাতন মহাসংঘের নেতৃবৃন্দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আর্থিক সহযোগিতা, শ্রম ও ধর্মীয় আবেগের সমন্বয়ে নির্মিত শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য, উসকানিমূলক প্রচারণা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
তাদের মতে, নির্মাণকাজ স্থগিত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে সনাতনী সমাজের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভগবান শ্রীরামের বিগ্রহের মর্যাদা রক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, ভগবান শ্রীরাম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ন্যায়, আদর্শ, ত্যাগ ও ধর্মনীতির প্রতীক। তাই তাঁর বিগ্রহকে ঘিরে অবমাননাকর বক্তব্য ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণাকে তারা একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন, প্রচার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের অধিকার দিয়েছে। কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করা কিংবা সাংবিধানিক অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরিপন্থী।তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশ সনাতন মহাসংঘ ধর্মীয় অবমাননা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ঘৃণামূলক প্রচারণার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেছে সংগঠনটি।
আয়োজকদের ভাষ্য, এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং ধর্মীয় মর্যাদা, সাংবিধানিক অধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দাবিতে একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি।
বাংলাদেশ সনাতন মহাসংঘ দেশের সকল সনাতনী সংগঠন, মন্দির কমিটি, ছাত্র-যুব সমাজ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী নাগরিকদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। কোনো ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানই হোক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলার ভিত্তি।”তারা শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান।
ডিএমএন/