কুতুপালং এলাকায় আশ্রিত পরিবারগুলোর দাবি—খাদ্য তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় দুর্বিষহ জীবনযাপন, দ্রুত সহায়তা পুনরায় চালুর আহ্বান
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এলাকায় বসবাসরত ৩২০টি হিন্দু রোহিঙ্গা পরিবার গত চার মাস ধরে খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য মানবিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ তুলেছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব পরিবার বর্তমানে চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, ২০২৬ সালে এসে তাদের নাম খাদ্য সহায়তার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তারা নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পাচ্ছেন না। বর্তমানে অনেক পরিবার ক্যাম্পের বাইরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছে বলেও জানা গেছে।
হিন্দু রোহিঙ্গা শরণার্থী আসিস শীল ও সুশুধন ধর অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস ধরে তারা কোনো ধরনের খাদ্যসামগ্রী বা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে কুতুপালং এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল শর্মা বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ থাকায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) শরিফুল ইসলামের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাদের সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক মানবিক সহায়তা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
ডিএমএন/