পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া চৌদ্দ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরী উপজেলার এগারোগ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে প্রতিবেশী রেবেকা সুলতানাসহ স্থানীয়রা কৌশলে মেয়েটিকে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন যে কিশোরীটি প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরী এবং স্থানীয় প্রতিবেশীদের অভিযোগের তীর মেয়েটির নিজের পিতা ও পেশায় গরু ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত পিতা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার অভিযোগ ভুক্তভোগী কিশোরীর মা না থাকায় সে তার বাবার সঙ্গেই একই ঘরে থাকত। কিশোরীর অভিযোগ, রাতে তাকে জোরপূর্বক ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হতো এবং সে অচেতন হয়ে পড়লে তার পিতা বারবার তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাত। এই কথা কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো বলে জানায় সে। বর্তমানে অভিযুক্ত পিতা পলাতক থাকায় ভুক্তভোগী কিশোরী প্রতিবেশীদের জিম্মায় রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত মাসখানেক ধরে কিশোরীটি শারীরিক অসুস্থতা বোধ করছিল। তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। প্রতিবেশী আব্দুল কাদের ও রেবেকা সুলতানা জানান, আব্দুল আজিজের চারিত্রিক রেকর্ড ভালো নয়। এর আগেও তার আগের সংসারের এক বিবাহিত মেয়ে বেড়াতে আসলে, আব্দুল আজিজ তার ওপরও জোরপূর্বক অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন সেই মেয়ে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে চলে যায়।
প্রতিবেশীরা আরও জানান, হাসপাতাল থেকে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আব্দুল আজিজের কাছে জবাব চাওয়া হলে সে প্রথমে নিজেকে মেয়েটির পিতা হিসেবে পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে পরিচয় স্বীকার করলেও ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং সাংবাদিকদের ‘রিপোর্ট না করার’ অনুরোধ জানায়। এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়রা তার বাড়িতে গিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গা-ঢাকা দেয়।
নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. লিমা আক্তার কিশোরীটির আলট্রাসনোগ্রাম করার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও রোগীর গোপনীয়তার স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “কারো ব্যক্তিগত রোগশোক নিয়ে বাইরে তথ্য দেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু হাসপাতালে পরীক্ষার মাধ্যমে আল্ট্রাসনোগ্রামে দেখা যায় মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল আজিজকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। একজন অসহায় মাতৃহীন কিশোরীর ওপর নিজ পিতার এমন নৃশংস আচরণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
নেছারাবাদ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার বলেন, এ বিষয়ে আমরা কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
ডিএমএন/