সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় একটি অসহায় হিন্দু পরিবারের বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখলকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার (নির্দিষ্ট তারিখ পাওয়া যায়নি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ঘোষপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। তাদের দাবি, মোঃ সাইফুল ইসলামের নির্দেশে এবং মোঃ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়।
এছাড়া অভিযোগপত্রে মোঃ শামীম ও মোঃ ফজলুর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিও হামলায় অংশ নেয় বলে দাবি করেছে পরিবারটি।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বসতভিটা দখলের চেষ্টা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিতভাবে আক্রমণ চালায়। এ সময় দেশীয় ধারালো অস্ত্র, বিশেষ করে চাপাতি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে পরিবারের নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
হামলায় রনজিত ঘোষ, মিঠুন ঘোষ, রিনা ঘোষ, রত্না ঘোষ, সুচিত্রা ঘোষ এবং সন্দীপ ঘোষ আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং পুনরায় হামলার শঙ্কায় রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের জানমাল ও বসতভিটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ডিএমএন/