পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় নির্মল চন্দ্র হালদার (৬০) নামে এক কবিরাজের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের ছেলে সুমন হালদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে নেছারাবাদ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
নিহত নির্মল চন্দ্র হালদার উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের পশ্চিম কুড়িয়ানা গ্রামের বিপেন হালদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কবিরাজ ছিলেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে (সোমবার) শেষ বিকেলে নির্মল হালদার কুড়িয়ানা বাজারে যান। সেখানে আব্দুল মজিদ মিয়ার দোকানে চা পান করার পর তিনি বাজার থেকে বের হয়ে যান। এরপর রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন সকালে নিহতের ছেলে সুমন হালদার খবর পান যে, পাশ্ববর্তী স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের পানাউল্লাহপুর গ্রামের মো. শাহ আলম ডাকুয়ার একটি পরিত্যক্ত ঘরের পাশে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে রয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি নির্মল হালদারের বলে শনাক্ত করেন।
সুমন হালদার অভিযোগ করেন, তার বাবা সবসময় গলায় প্রায় দেড় ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের লকেট পরতেন। এছাড়া তার কাছে নগদ ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং একটি দামী টাচ মোবাইল ফোন ছিল। তার ধারণা, এসবের লোভে দুর্বৃত্তরা কৌশলে তাকে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে অপহরণের পর হত্যা করেছে।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, পানাউল্লাহপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরের পাশ থেকে নির্মল হালদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মে পশ্চিম কুড়িয়ানা গ্রাম থেকে নির্মল চন্দ্র হালদার নিখোঁজ হন। নিখোঁজের একদিন পর ১৯ মে সকালে পানাউল্লাহপুর গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ডিএমএন/