মোরেলগঞ্জে লাইসেন্সের আড়ালে অতিরিক্ত সুদের অভিযোগ, বন্ধকী ১০ ভরি স্বর্ণ ফেরত চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন

Spread the love

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় মানিলেন্ডার্স লাইসেন্সের আড়ালে সুদের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এবার মোরেলগঞ্জ বাজারের সততা কাপড়ের দোকানের মালিক ও মানিলেন্ডার্স লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী সুনীল পোদ্দারের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ ভরি বন্ধকী স্বর্ণ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিশ্বজিৎ পোদ্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করার পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেও অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনের সময় তিনি সুনীল পোদ্দারের কাছে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ বন্ধক রেখে ১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে নির্ধারিত সুদ পরিশোধসহ পাওনা পরিশোধের প্রস্তুতি নিলেও দীর্ঘদিন ধরে তার বন্ধকী স্বর্ণ ফেরত দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।

লিখিত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সুদ বাবদ ৩৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেছিলেন। বর্তমানে আসল ১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং সুদ বাবদ ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা, অর্থাৎ মোট ২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা পরিশোধ করে স্বর্ণ ফেরত নিতে চান। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে এবং স্বর্ণ বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, তার আবেদনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্যের সুপারিশও রয়েছে। তবে আবেদন করার প্রায় এক মাস পার হলেও বন্ধকী স্বর্ণ উদ্ধারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে প্রতিকার না পেয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেও অভিযোগ দায়ের করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোরেলগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মানিলেন্ডার্স লাইসেন্সের আড়ালে উচ্চ সুদে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনের তাগিদে নিম্ন আয়ের মানুষ সুদে টাকা নিলেও পরে অতিরিক্ত সুদের চাপে অনেকেই জমি, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সম্পদ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন—মানিলেন্ডার্স লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে কি না, বন্ধক রাখা স্বর্ণের হিসাব ও লেনদেনের নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না এবং অভিযোগে উল্লেখিত স্বর্ণের বর্তমান অবস্থান কোথায়—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সুনীল পোদ্দারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেবালয় মিডিয়া নিউজ-এর পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পরবর্তী সংস্করণে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে ভুক্তভোগী বিশ্বজিৎ পোদ্দার তার বন্ধক রাখা স্বর্ণ দ্রুত ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সচেতন মহলও মোরেলগঞ্জে মানিলেন্ডার্স লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম, সুদের হার, বন্ধকী সম্পদের হিসাব ও লেনদেনের বৈধতা খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ডিএমএন/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *