কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার একটি মসজিদের নাম ও অবস্থান পরিবর্তন করে সম্মানী ভাতা প্রাপ্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ফুলবাড়ী ইউনিয়নের একটি মসজিদকে ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের মসজিদ হিসেবে দেখিয়ে অনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ভাতা উত্তোলনের পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিতরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভূক্ত মসজিদটির প্রকৃত অবস্থান ফুলবাড়ী ইউনিয়নে হলেও কাগজপত্রে তা ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে। এ অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বঞ্চিত মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মসজিদের ঈমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সীমিত পরিসরে মাসিক ভাতা চালু করার লক্ষ্যে ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ এর পূর্বে তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে জামে মসজিদ নির্বাচনের জন্য ৩ সদস্যের উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতি, সমাজসেবা কর্মকর্তা সদস্য সচিব এবং ইসলামী ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার সদস্য হিসেবে থাকেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, রহস্যজনক কারণে ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খড়িবাড়ী বাজার শাহী জামে মসজিদের নাম তালিকাভুক্ত না করে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের খরিবাড়ী বাজার পুরাতন জামে মসজিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ অনুদান সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
১৭ বছর ধরে খড়িবাড়ী বাজার শাহী জামে মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালনকারী আবুল কাসেম বলেন, পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ী ইউনিয়নের একটি মসজিদকে ভাঙ্গামোড় দেখিয়ে ভাতাপ্রাপ্তির তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা আমাদের বঞ্চিত করেছে। মুসল্লিরা দাবি করছেন, দ্রুত তদন্তপূর্বক এই মসজিদটি তালিকাভুক্ত করা হোক।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফুলবাড়ী উপজেলার সুপারভাইজার রাশেদুল ইসলাম জানান, মাঠ পর্যায়ের জরিপকারীরা যেটি দিয়েছেন, সে অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আকতার বলেন, এ বিষয়ে কিছুই জানি না, তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুর রাজ্জাক রনি জানান, বিষয়টি জেনেছি। ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে সঠিক তদন্তের পরে তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে।
ডিএমএন/