সনাতনী সমাজের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশ্ব হিন্দু মহাসভা বাংলাদেশের সভাপতি শ্রী বরুণ চন্দ্র সরকার।
তিনি বলেন, সংগঠন কেবল সভা, মিছিল কিংবা পদ-পদবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি কার্যকর সংগঠনের মূল শক্তি হচ্ছে মানুষের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানো এবং ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা।
দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বরুণ চন্দ্র সরকার বলেন, বিভিন্ন সংগঠনে নানা ধরনের কর্মসূচি থাকলেও বর্তমান প্রজন্মের মেধাবী তরুণদের অনেক ক্ষেত্রে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না। এর ফলে সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার সুযোগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তার মতে, নেতৃত্ব নির্বাচনে পদ বা পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা, দক্ষতা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি, গবেষণা, লেখালেখি, জ্ঞানচর্চা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের দক্ষতা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু সহযোগিতা বা সহানুভূতি প্রদর্শন যথেষ্ট নয়। এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তরুণরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাবে।
তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বরুণ চন্দ্র সরকার বলেন, তরুণদের মধ্যে রয়েছে উদ্ভাবনী চিন্তা, সাহস ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা। অন্যদিকে প্রবীণদের রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব জ্ঞান। এই দুই প্রজন্মের সমন্বয়েই টেকসই ও শক্তিশালী নেতৃত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, তরুণদের সামনে এগিয়ে দিতে প্রবীণদের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিতে হবে। কোনো তরুণ যদি যোগ্যতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে সনাতনী সমাজকে আরও এগিয়ে নিতে পারে, সেটিকে প্রবীণ প্রজন্মের সাফল্য হিসেবেই দেখা উচিত।
বরুণ চন্দ্র সরকারের ভাষায়, ‘পদ দিয়ে নেতা বানানো যায়, কিন্তু মেধা ছাড়া নেতৃত্ব সৃষ্টি করা যায় না।’ তাই ব্যক্তি বা পদকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে আদর্শ, দায়িত্ববোধ, যোগ্যতা ও মেধাকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ভবিষ্যতের সংগঠনকে প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষতা-কেন্দ্রিক, মানবিক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সনাতনী সমাজের উদ্দেশে বরুণ চন্দ্র সরকার বলেন, ব্যক্তির চেয়ে আদর্শকে বড় করতে হবে, পদ নয়—দায়িত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘তরুণ সামনে, প্রবীণ পাশে—মেধা হোক শক্তি, যোগ্যতা হোক নেতৃত্ব এবং ঐক্য হোক আগামী দিনের পথ।’
ডিএমএন/