রাজশাহীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টিতে দুঃসাহসিক ডাকাতি, কারুশ্রী জুয়েলার্স থেকে শতাধিক ভরি স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

Spread the love

রাজশাহী নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার স্বর্ণপট্টিতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে একটি স্বর্ণের দোকানে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, দোকানটিতে প্রায় আড়াইশ থেকে তিনশ ভরি স্বর্ণালংকার মজুত ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে দোকান খোলার সময় প্রথম ঘটনাটি ধরা পড়ে। পরে দেখা যায়, আফিয়া জুয়েলার্স ও কারুশ্রী জুয়েলার্সের মধ্যবর্তী পার্টিশন দেয়াল কেটে দুর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করেছে।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতচক্র প্রথমে আফিয়া জুয়েলার্সের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর সেখান থেকে দেয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে ঢুকে সিন্ধুক ভেঙে স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে বের হওয়ার সময় তারা আবার আফিয়া জুয়েলার্সের তালা লাগিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তূর্য সরকার সকালে দোকান খুলে ভেতরের এলোমেলো অবস্থা দেখে ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত হন। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং পরে প্রতিবাদস্বরূপ স্বর্ণপট্টির অধিকাংশ দোকান বন্ধ করে দেন।

ব্যবসায়ীদের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত সংঘবদ্ধ ডাকাতি। দোকানের ভেতরের বিন্যাস, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্বর্ণ সংরক্ষণের স্থান সম্পর্কে পূর্ব থেকেই ধারণা থাকায় চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে অভিযান চালিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

ঘটনার পর এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, আশপাশের ভবন বা স্থাপনা থেকে দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করেই ডাকাতচক্র পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”

এদিকে ঘটনার পর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টি এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা। ঘটনার প্রতিবাদে দুপুরে জুয়েলার্স সমিতির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ডিএমএন/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *