স্কুল টিফিনের টাকা জমিয়ে রামকূট তীর্থধামের সংস্কারে অনুদান, অনন্য দৃষ্টান্ত ৭ বছরের ফাল্গুনী পালের

Spread the love

কক্সবাজারের রামুতে খেলনা, চকলেট কিংবা আইসক্রিম কেনার বায়না না ধরে নিজের স্কুল টিফিনের টাকা জমিয়ে ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী রামকূট তীর্থধামের সংস্কার কাজে অনুদান দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ৭ বছরের শিশু ফাল্গুনী পাল।

জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার রাজারকুল এলাকার দেয়াং পাড়ার বাসিন্দা শ্রী বিকাশ পালের কন্যা ফাল্গুনী পাল দীর্ঘদিন ধরে নিজের টিফিনের খরচ থেকে অল্প অল্প করে টাকা সঞ্চয় করে। পরে সে তার জমানো ৫০০ টাকা ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী রামকূট তীর্থধামের সন্ন্যাসী পুকুরে ঘাট ও সিঁড়ি নির্মাণের জন্য গঠিত উন্নয়ন তহবিলে অনুদান হিসেবে প্রদান করে।

সাধারণত যে বয়সে শিশুরা খেলনা, চকলেট কিংবা অন্যান্য শখ পূরণে ব্যস্ত থাকে, সে বয়সে ফাল্গুনীর এই উদ্যোগ অনেককে বিস্মিত করেছে। ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা এবং তীর্থস্থানের উন্নয়নে অংশ নেওয়ার মানসিকতা তার এই ছোট্ট উদ্যোগকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

স্থানীয়দের মতে, অর্থের পরিমাণের চেয়ে এর পেছনের আন্তরিকতা ও ত্যাগের মূল্য অনেক বেশি। মাত্র সাত বছরের একটি শিশুর এমন সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

ফাল্গুনীর পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই সে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি আগ্রহী। রামকূট তীর্থধামের সংস্কার কাজের কথা জানতে পেরে সে নিজের সঞ্চিত অর্থ অনুদান দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

স্থানীয় সনাতনী সমাজের নেতৃবৃন্দ ও ভক্তরা ফাল্গুনীর এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, শিশু বয়স থেকেই ধর্মীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ফাল্গুনী পালের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, তার এই ছোট্ট অবদান অন্যদেরও ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

ডিএমএন/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *