নরসিংদির রায়পুরা থেকে পণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া শ্যামল দাসের অর্ধগলিত মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সলিমগঞ্জ এলাকায় নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে হত্যা করে ডেলিভারির টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শ্যামল দাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের রহিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে রায়পুরা ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্ট থেকে আলোকবালী, বাখরনগর ও মোড়াদনগর বাজারে পণ্য সরবরাহ করতেন।
পণ্য নিয়ে আলোকবালী যেতে তাকে মনিপুরা নদীর ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করতে হতো। পণ্যের পরিমাণ বেশি হলে সঙ্গে আরেকজন থাকতেন, আর কম হলে তিনি একাই ডেলিভারি দিতে যেতেন। দীর্ঘদিন ধরে খোদাদিল্লা গ্রামের রেজন মিয়া নামের এক মাঝি কিংবা তার ছেলে তাকে নৌকায় করে নিয়ে যেতেন।
গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শ্যামল দাস রেজন মাঝির ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মনিপুরা ঘাট থেকে আলোকবালীর উদ্দেশে রওনা হন। বাজারগুলোতে পণ্য সরবরাহ শেষে দুপুর ১২টার দিকে তিনি ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টে ফোন করে জানান, ডেলিভারি শেষ হয়েছে এবং একই নৌকায় ফিরে আসবেন।
এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও শ্যামল দাস ফিরে না আসায় ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টের কর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তারা খোদাদিল্লা গ্রামে রেজন মাঝির বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেন।
সেখানে রেজন মাঝির ছেলে জানান, তিনি শ্যামল দাসকে দুপুর ১টার দিকে খোদাদিল্লা ঘাটে নামিয়ে দিয়েছেন। তবে শ্যামল দাসের নিয়মিত মনিপুরা ঘাটে ফেরার কথা থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে রেজন মাঝির ছেলেকে সন্দেহ করা হলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শ্যামল দাসকে মেঘনা নদীর মাঝপথে নীলক্ষার কয়েকজনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
এরপর ১ নভেম্বর রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সলিমগঞ্জ এলাকায় নদীতে শ্যামল দাসের অর্ধগলিত মরদেহ ভেসে ওঠে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডেলিভারির টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। শ্যামল দাসের মৃত্যুতে তার পরিবার, সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা।