নওগাঁয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী অলিফ চন্দ্র দত্তকে কুপিয়ে হত্যা, ৬ ভরি সোনা ও ৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

Spread the love

নওগাঁর মহাদেবপুরে দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে অলিফ চন্দ্র দত্ত (৪৫) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আনুমানিক ছয় ভরি সোনা ও সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দুলালপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় অলিফ চন্দ্র দত্তের মৃত্যু হয়।

নিহত অলিফ চন্দ্র দত্ত দুলালপাড়া গ্রামের মৃত সুনিল চন্দ্র দত্তের ছেলে। তিনি মহাদেবপুর বাজারে ‘দত্ত জুয়েলার্স’ নামে একটি স্বর্ণের দোকান পরিচালনা করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাত ৮টার দিকে মহাদেবপুর বাজারের দোকান বন্ধ করেন অলিফ চন্দ্র দত্ত। এরপর মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে অলিফ চন্দ্র দত্তের মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। এ সময় হামলাকারীরা তার কাছে থাকা সোনা ও নগদ টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় অলিফ চন্দ্র দত্তকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠান। পরে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর দুলালপাড়া এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিদিনের ব্যবসা শেষে বাড়ি ফেরার সময় কীভাবে হামলার শিকার হলেন এবং তার সঙ্গে থাকা সোনা ও বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা সম্পর্কে হামলাকারীরা আগে থেকেই জানত কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় অলিফ চন্দ্র দত্তের সঙ্গে আনুমানিক ছয় ভরি সোনা ও সাত লাখ টাকা ছিল। তবে সোনা ও নগদ টাকার প্রকৃত পরিমাণ এবং কীভাবে সেগুলো ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় হামলার উদ্দেশ্য নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাটি শুধুই ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে, নাকি এর পেছনে পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এটি শুধু ছিনতাইয়ের ঘটনা, নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *