চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাজীগাঁও পশ্চিম শোলকাটা এলাকার বাদল মাস্টারের বাড়িতে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি পরিবারের ওপর হামলা, মারধর ও বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। হামলার ঘটনায় এক নারী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন এবং এক প্রবীণ ব্যক্তি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার শিকার জোসনা দত্ত ও সমীর দত্তের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পৈতৃক জমি নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পাঠ ও বস্ত্র বিষয়ক সম্পাদক আশীষ কুমার সিংহের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে তাদের পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা করে আসছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিপক্ষ ওই জায়গাটি কেনা হয়েছে বলে দাবি করলেও এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দলীয় প্রভাব দেখিয়ে তাদের পরিবারের ওপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং এর আগেও প্রবীণ সমীর দত্তের ওপর একাধিকবার হামলা করা হয়েছে।
জোসনা দত্ত ও সমীর দত্তের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ আগস্ট বিকেলে স্থানীয় কালীবাড়ির সামনে আশীষ কুমার সিংহের সঙ্গে তাদের আত্মীয় দীপক জেঠুর বাকবিতণ্ডা হয়। এর কিছু সময় পর আশীষ কুমার সিংহ তাদের বসতবাড়ির কাছে এলে জোসনা দত্তের সঙ্গে পুনরায় তর্কাতর্কি শুরু হয় বলে জানান তারা।
একপর্যায়ে আশীষ কুমার সিংহ জোসনা দত্তের হাত ধরে টানাটানি করেন বলে অভিযোগ করেন জোসনা। এ সময় আত্মরক্ষার্থে হাতে থাকা একটি ঝাড়ু দিয়ে তিনি প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ঝাড়ুটি আশীষ কুমার সিংহের গায়ে লাগে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই ঘটনার পরপরই আশীষ কুমার সিংহের অনুসারী হিসেবে পরিচিত প্রীতম, পার্থ ও প্রথিক নামের তিন ব্যক্তি তাদের বসতঘরের দরজায় লাথি মেরে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা ঘরে তাণ্ডব চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।জোসনা দত্তের অভিযোগ, ঘরে ঢুকে তাকে চুলের মুঠি ধরে টেনে উঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। একপর্যায়ে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে পড়ে যান বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ঘরের ভেতরে থাকা প্রবীণ সমীর দত্তকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পরিস্থিতি গুরুতর দেখে স্থানীয় এক প্রতিবেশী এগিয়ে এসে সমীর দত্তকে কোলে করে পাশের বাড়িতে নিয়ে যান বলে তারা জানান।
হামলাকারীরা শুধু শারীরিকভাবে মারধর করেই থামেনি বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, বসতঘরের টিনের চালে বড় বড় পাথর নিক্ষেপ করা হয় এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে।
হামলার পর জোসনা দত্তকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে তার চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তার চিকিৎসা সংক্রান্ত মেডিকেল রিপোর্ট সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানান তারা।
ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জোসনা দত্ত ও সমীর দত্ত বলেন, “আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দলীয় পদ-পদবির দাপটে আমাদের ওপর বারবার হামলা হয়েছে। ইতিপূর্বে পুলিশের কাছে বারবার ধরণা দিয়েও কোনো প্রতিকার বা বিচার মেলেনি।”
ভুক্তভোগীদের উত্থাপিত অভিযোগ, জমি দখলের চেষ্টা এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের বিষয়ে জানতে আশীষ কুমার সিংহ এবং হামলায় অভিযুক্ত প্রীতম, পার্থ ও প্রথিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জোসনা দত্ত ও সমীর দত্ত জানিয়েছেন, তারা কোনো ধরনের সংঘাত চান না। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকানা ও কাগজপত্র যাচাই করা হোক এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে জমির মালিকানা, হামলার ঘটনা ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ডিএমএন/