বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইয়াসির আরাফাত। তাঁর অভিযোগ, দেশের উগ্রবাদী ও ইসলামপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর একটি অংশ বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, যেখানে ভিন্নমত, ভিন্ন দর্শন, প্রগতিশীল চিন্তা এবং শিল্প-সাহিত্যের চর্চার সুযোগ থাকবে না।
ইয়াসির আরাফাতের দাবি, এসব গোষ্ঠীর লক্ষ্য বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ক্রমাগত সংকুচিত করে দেশকে একক ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী ও নাস্তিকসহ বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশের বহুত্ববাদী চরিত্র হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠী ও বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি দুই দেশের সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যাগত পরিস্থিতির তুলনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর অনুপাত অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি দাবি করেন, একসময় হিন্দু জনগোষ্ঠীর হার প্রায় ২২ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে বক্তব্যে তিনি এ পরিসংখ্যানের নির্দিষ্ট উৎস বা সময়কাল উল্লেখ করেননি।
বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতের মানুষও একই ধরনের সংকটে পড়তে পারেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের ইতিহাস ও ধর্মীয় জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়েও বক্তব্য দেন ইয়াসির আরাফাত। এ সময় তিনি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নিয়ে বিতর্কিত ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন এবং বাংলাদেশের মাটিতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও আদিবাসীদের ঐতিহাসিক মালিকানা নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মতামত; এর ঐতিহাসিক দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনে করা হয়নি।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইয়াসির আরাফাত। ব্যঙ্গাত্মকভাবে তিনি প্রশ্ন করেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন তিনি দেশের সবচেয়ে বড় অপরাধী। তাঁর ভাষ্য, যদি তাঁর বিরুদ্ধে এত গুরুতর অপরাধের অভিযোগ না থাকে, তাহলে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর জামিন না হওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
ইয়াসির আরাফাতের বক্তব্যে মূলত বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় সহাবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনি অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে।
তবে বক্তব্যে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ, জনসংখ্যাগত পরিসংখ্যান ও ঐতিহাসিক দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্য, গবেষণা বা নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রের যাচাই প্রয়োজন।